২০২৩ সালে প্রভাব ফেলবে ৭ প্রযুক্তি

1
1118
প্রযুক্তি ২০১৯

২০১৯ সালের ৭টি প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। এসব প্রযুক্তি মানুষের পণ্য ও সেবা ব্যবহার, অভ্যস্ততা ও চিন্তার ধরণ বদলে দিবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। গতকাল (সোমবার) রাজধানীর জিপি হাউজে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে একথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে টেলিনরের গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টেলিনর রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিয়র্ন হ্যানসেন। এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পি. ফোলি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান রহমান রতন, ডাটাসফট ম্যানুফ্যাসচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বল ইন্স লি, পাঠাও এর সিইও হোসাইন ইলিয়াস, হেড অব আইসিটি বিজেনেস রেদওয়ান হাসান খান, গ্রামীণফোনের হেড অব ডিজিটাল এ্যান্ড এ্যানালাইটিকস অপারেশান সোয়াইবা সারওয়াত সিনথিয়া।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ডিজিটালাইজেশানের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই, আমাদের দেশেও নতুন সাত প্রযুক্তি যে চলে আসবে তা মোটামুটিভাবে নিশ্চিত। এসব প্রযুক্তি হচ্ছে- ডিপফেক, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জি’র প্রসার, আইওটি বা ইন্টারনেট অব থিংস- এর বিস্তৃত ব্যবহারের উত্থান, বাসায় ব্যবহারে ভয়েস অ্যাক্টিভেটেড চ্যাটবটস এবং সচেতনতামূলক বিষয় যেমন ডিজিটাল স্ক্রিনে থাকার সময়ের নিয়ন্ত্রণ ও মোবাইলচালিত গ্রিন টেকনোলজি।
টেলিনর রিসার্চের মতে, অতিউন্নত অ্যালগরিদম সহজেই জাল ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারবে এবং ডিপফেক কন্টেন্টগুলো এতোটাই অত্যাধুনিক হবে যে ডিজিটাল বিশ্বের কোনটা আসল কিংবা কোনটা নকল তা আলাদা করা কঠিন হয়ে যাবে। ২০১৯ সালে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, অপারেটর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ডিপফেক কন্টেন্ট হ্রাসে কাজ করবে এবং এ নিয়ে বিস্তৃত পরিসরে গণসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করবে। প্রযুক্তিবিদরা বলেন, ইতোমধ্যেই পুরো বিশ্ব ৫জি প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে, কিন্তু ২০১৯ সালে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি উপলব্ধি করা যাবে। স্বচালিত ও স্বয়ংবাহিত বাস থেকে অটোমেটেড ফিশারিজ, ডেটা নির্ভর টিভি ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড থেকে ৫জি ক্ষমতাসম্পন্ন রিমোট সার্জারির সম্ভাব্য অ্যাপ্লিকেশন, এসব মিলে বলা যেতে পারে ২০১৯ সালে ৫জি’র অবাধ দ্বার উন্মোচিত হবে যার ফলে ২০২০ সালে বাণিজ্যিকভাবে এ প্রযুক্তির নানা ব্যবহার গ্রাহকের জন্য বাজারে চলে আসবে।
এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে লো-পাওয়ার ওয়াইড-এরিয়া (এলপিডবিøউএ) ইকোসিস্টেমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটির মাধ্যমে প্রোটোটাইপ থেকে বৃহৎ পর্যায়ে কমার্শিয়াল ডেপ্লয়মেন্ট (বাণিজ্যিক স্থাপনা) ঘটবে।
বৃহদায়তনে আইওটি শিল্প বিশেষ করে স্মার্টসিটি, শিল্প উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্প যেমন- শিপিং, ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্ট মনিটরিং ও ফিশারিজ গড়ে উঠবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টেক্সট-নির্ভর চ্যাটবটস, ভয়েস-অ্যাক্টিভেটেড চ্যাটবটসে রূপান্তরিত হবে। বাসার প্রতিদিনকার কাজের রুটিনগুলো অত্যন্ত সহজে ভয়েস-অ্যাক্টিভেটেড চ্যাটবটস নির্ভর স্মার্ট ভয়েস-রিকগনিশনের নানা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে করে ফেলা যাবে। সম্ভাবনা রয়েছে, ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের জন্য ভয়েস-অ্যাক্টিভেটেড চ্যাটবটস ব্যাপক পরিসরে বাজারে চলে আসবে।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পি. ফোলি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত এবং একীভূত হচ্ছে, যা সত্যিই ইতিবাচক। নতুন প্রযুক্তি প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশব্যাপী শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলোর কিভাবে প্রস্তুত হওয়া উচিৎ তা স্পষ্টভাবেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here