মিজানুর রহমান,এমন মানুষ যুগে যুগে জন্মায় না।

0
291
প্রয়াত জনাব, মিজানুর রহমান

আলফাডাঙ্গা থেকে মেহেদী হাসিফ:
প্রয়াত জনাব, মিজানুর রহমান। আমার আদর্শ ও অহংকার তিনি ছিলেন মানবিকতা ও আদর্শের প্রতিক,বলছি আমার দাদা কথা। শেষ কথা হয়েছিল ফোনে, এপাশ থেকে আমি সালাম দিতেই মানুষটি বলে উঠলেন, বাপ্পি, আজকে তোকে সারা রাত ঘুমের মধ্যেসপ্ন দেখেছি আর বলছিলাম ওষুধ নিয়ে আয়। এখানে সেখানে তোকে পাঠাচ্ছি ! আমার আপন মানুষটা আমার দাদা, তখন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।
আমি কিছু সময় নিস্তব্দ হয়ে থেকে বললাম, দাদা মহান আল্লাহ তালা আপনাকে দ্রুত সুস্থতা দান করবেন, আপনি চিন্তা করবেন না। আর তখন হঠাত আমারমনে প্রশ্নউদয় হলো, দাদা কি আমাকে তার এই অসুস্থ সময়ে পাশে চাচ্ছে? যদিও দাদার পাশে তখন পরিবারের সকলেই ছিলেন তবুও মনে হচ্ছিল আমি থাকলে হয়তো দাদার মনে শান্তি পেতেন। সর্বদা দাদার আমার প্রতি অঘাত ভালবাসা আর বিশ্বাস ছিলো। আমি ও তাঁর বিশ্বাস রক্ষা করার চেষ্টা করেছি, কতটুক পেরেছি তা জানিনা।
তাঁর পরের দিন ফোনে খবর জানতে পারলেও আর কথা বালার সুযোগ হয়নি, কারণ দাদা তখন (আই সি ইউ) তে প্রচন্ড ইচ্ছে থাকলেও কথা বলার সুযোগ হচ্ছিল না। তার পর, গত ২৪ জানুয়ারী ২০২২ তারিখ সন্ধায় আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন। প্রবাস জীবন জেন এক অভিশাপের জীবন দাদার শেষ যাত্রাতেও দাদার পাশে থাকতে পারলাম না দাদার কবরে একমুঠ মাটিও দিতে পারলাম না। দাদা, আপনি শুধু দিয়ে গেলেন, আপনার জন্য কিছুই করতে পারলাম না।
গতবছরের আগস্ট মাসের ২১ তারিখেআমার আব্বা আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে যান, আব্বার অসুস্থতার সংবাদ শুনে দেশে ছুটে গেলে তাঁর ৭ দিন পরে আব্বা চিরদিনের জন্য আমাদের ছেরে চলে যান। ২১ অগস্ট সকালে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায়। আব্বার কথা মনে আসলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনা, আল্লহ তালার নিকট আমার আব্বার জন্যদোআ করি, পরম করুণাময় আল্লাহতাআলা জেন আব্বাকে পরপারে অনেক ভালো রাখেন, জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
আব্বাকে নিয়ে যখন দিশেহারা তখন এই মহান মানুষটা মাথার উপড়ে ছাদ ছায়া হয়ে সাহস আর দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এ কথা বলার প্রয়োজন নেই, যেঁ দাদা একজন প্রখর জ্ঞানী, সৎ, ন্যায় পরায়ন এবং সাদা মনের একজর মানুষ আমার আব্বা ও এই ধরনের একজন মানুষ।
দাদা আপনি ছিলেন আস্থার আর আশ্রয়ের প্রধান একটা পিলার, যখন যে কোন বিষয় নিয়ে আপনার দ্বাস্থ হয়েছি তার সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন আজীবন । আমার এবং আমাদের জন্য অনেক করেছেন, অনেক আদোর ভালবাসা দিয়েছেন, আব্বাকে হারানো পরে আপনাকে হারালাম, নিজেকে আসলে অসহায় মনে হয়। দাদা বাক্তিগত জীবনে যেমন সফলতার শীর্ষে গিয়েছিলেন আবার সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ও এলাকার উন্নয়নে, ব্যাক্তিগত ভাবে মজিদ, মাদ্রাসায়, অসংখ্য অবদান রেখেছেন।
নিজ স¦ার্থের কথা না ভেবে মানুষের উপকার করেছেন আত্মীয় সজন ও এলাকার গরীব দুঃখি মানুষের। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলেছেন আজীবন। তাই আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসার কমতি ছিলোনা কোন দিনএকালার সাধারণ মানুষ ও আত্মীয় স্বজনদের।সফল ও গুণী এই মানুষটি কর্ম জীবন পার করেছেন কাতারে স্বনামধন্য একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিটয়োটা’তেউচ্চ পদস্থ কর্মকত্তা হিসাবে।
তিনি একাধারে ৩৪ বছরটয়োটাকোম্পানির কমার্শিয়াল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সুখ্যাতিরসাথে। দেশের ভাবমুর্তি উজ্জল করেছিলেন বিশ্ববাসীর কাছে। ২০১০ সালে অবসারে গেলেও এখানকার মানুষ আপনাকে ভুলতে পারে নাই আজও। তাই আপনার চলে যাওয়ার সংবাদটা তাদেরকেও ভীষণ ভাবে মর্মাহত করেছেন।
প্রিয় দাদা আর কোন দিন দেখা হবেনা, কথা হবেনা ভেবে মানতে পারি না।আর আপনার সাথে দেখা করার জন্য বাসায় গেলে না খেয়ে অপেক্ষা করবেন না, বার বার ফোন করে খবর নিবেন না। খাবার টেবিলের পাশে বসে এটানে, ঐটানে বলে পেলেটে উঠায় দিবেন না,আর কোন দিন উপদেশ, নির্দেশ করবেন না । এটা ভাবতেই কষ্টে বুক ভেঙ্গে আসে।
আসা যাওয়ার এই দুনিয়াতে কষ্টদায়ক এই বাস্তবকে সবারই মেনে নিতে হয়। সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যায়, আপনার মতন অনেক আলোকিত মানুষ। তবে আপনাকে ভুলবো না। আপনার আদর্শ নীতি-নৈতিকতা আপনাকে বাচিয়ে রাখবে আজীবন। মহান আল্লাহ তালার কাছে দোআ করি আল্লাহযেন আপনাকে পরপারে ভাল রাখেন, জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন আমিন।

 

 

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here