কাশিয়ানীতে স্থানীয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের জায়গা দখলের অভিযোগ

0
530
স্কুল শিক্ষক নিরোদ রায়ের জায়গা দখল করে গভীর রাতে মাটি ভরাট

কাশিয়ানী( গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে স্কুল শিক্ষকের জায়গা দখল করে গভীর রাতে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে । রোববার রাত ১২ টায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার বেথুড়ী ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামের নিরোদ রায়ের জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের হারুন মোল্যার বিরুদ্ধে । সোমবার বেলা সাড়ে ১০ টায় কাশিয়ানী থানার রামদিয়া ফাড়ি থেকে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয় । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিরোদ রায় বলেন, গতকাল রাতে ১২ টায় হটাৎ শব্দশুনতে পেয়ে ঘর থেকে বের হই । দেখি আমাদের জায়গায় ট্রাক থেকে বালু ফেলছে । তখন আমার স্ত্রী ইতি রানী বিশা^সকে নিয়ে তাদের কাছে জানতে চাই আমাদের জায়গায় কেন বালু ফেলছে ? তারা বলে হারুন মোল্লা তাদের বালু ফেলতে বলেছে এখানে বাধা দিতে আসলে খুন করে ফেলবো । পরে থানায় ফোন দিলে পুলিশ এসে নিষেধ করে । সকাল থেকে পুনরায় কাজ শুরু করে তারা। তিনি আরো বলেন, ২৫ বছর আগে আমি রামদিয়া গ্রামের হারুন মোল্লার কাছে ১৩ শতক জমি বিক্রি করি , ওই জমিতে তারা বসবাস করছে । কিছু দিন আগে তারা আমার বাড়ির সামনের খালি জায়গায় খুঁটি পুতে দখলের পায়তারা করে । এনিয়ে আমরা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বৈঠক করি । হারুন মোল্লা ও তার পরিবারের লোক জন তাদের ভুল স্বীকার করে আমাদের কাছে ক্ষমা চায়।
নিরোদ রায়ের স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইতি রানী বিশা^স বলেন, প্রভাবশারী ওই পরিবারে কাছে আমরা দীর্ঘদিন যাবত জিম্মি। তারা যখন যা বলে আমাদের তাই মেনে নিতে হয় । আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই। আমাদের জমি দখল করে কাজ করছে আমরা বাধাঁ দিতে গেলে আমাদের হত্যা ও গুমের হুমকি দেয় । আমরা ওই পরিবারে হাত থেকে রেহাই চাই ।
সোমবার বেলা সাড়ে ৯ টায় কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া গ্রামের নিরোদ রায়ের বাড়ি সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, রামদিয়া-ফুকরা সড়কের উপর বালু রাখা হয়েছে । সেখানে কাজ করছেন পাঁচজন শ্রমিক । তারা সড়কের উপর থেকে বালু নিয়ে ওই জায়গায় ভরাট করছে। এর আগে তারা ওই জায়গার কয়েকটা গাছ কেটে ফেলে। পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পরিচালনা করছেন হারুনের ছেলে সুজন মোল্লা (৩৫)। তখন তাকে বলতে শোনাযায় সব জায়গা ভরে ফেল , কে কি করে সেটা আমি দেখবো । পাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন হারুন মোল্লার স্ত্রী সাবেক সংরক্ষিত ইউপি সদস্য শেফু খানম ।
একটু দূরে দাড়িয়ে কান্না করছে নিরোদ ও তার স্ত্রী । বেলা সাড়ে ১০ টায় রামদিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে উপ পরিদর্শক শহিদুল ও সহকারি উপপরিদর্শক রেজাউল ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয় ।
এবষিয়ে হারুন মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি নিরোদ রায়ের কাছ থেকে তের শতক জমি কিনেছিলাম । জমি পরিমাপ করে দেখি সেখানে তের শতক জমি নেই , দুই শতক কম আছে। তাই আমি এখান থেকে দুই শতক জমি দখল করছি এবং গতকাল রাতে বালু ফেলা শুরু করছি । এর আগে সার্ভেয়ার এসে জমি পরিমাপ করে । সেখানে আমাদের সার্ভেয়ার পরিমাপে ভুল করেছে ।
বেথুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান মিয়া বলেন, বিষয়টা নিয়ে কয়েকদিন আগে চারজন সার্ভেয়ারসহ এলাকার প্রায় দেড়শ লোক বসেছিলাম এবং জমি পরিমাপ করা হয়। তখন জানতে পারলাম ওই জায়গা নিরোদ রায়ের । হারুন মোল্লা সালিশ না মেনে ওই জায়গায় আজ বালু ফেলছে । আমরা এলাকার লোক ও পুলিশ প্রশাসন নিয়ে পুনরায় সমাধান করবো ।
এই মুহুর্তে হারুন মোল্লাকে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে । কাশিয়ানি থানার রামদিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পরিদর্শক শহিদুল বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি । দুই পক্ষ বসে সমাধানের জন্য বলা হয়েছে । হারুন মোল্লার কোন যুক্তিতে কাজ করছে এবং জমির দলিল দেখে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হারুন মোল্লার কাজ করতে পারবেনা ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here